One Living Life: ব্যথার প্রদীপ জালি

ব্যথার প্রদীপ জালি

আমার কথা

বীরভূম এর কিরনাহারে আমার জন্মস্থান। পিতা স্বর্গীয় জটাধারী চন্দ্র ছিলেন কিরনাহারের এক বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী। তিনি সমাজ সেবা ও নানা অনুষ্ঠানে এ সতত ব্রতী ছিলেন। সৎ ব্যাবসায়ী হিসেবে চারিদিকে তার নাম ছিল। আমার মাতা স্বর্গীয় শান্তিময়ী চন্দ্র ছিলেন সাক্ষাৎ দেবী। সকলকে তিনি সমান ভালোবাসতেন। নাতি, নাতনিদের বোরো করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কেউ খালি হাতে ফিরে যেত না তার কাছ থেকে। এক বছরের মধ্যে দুজনে চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। আমরা পাঁচ বোন ও এক ভাই পিতৃ-মাতৃ স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলাম।

আমার বিবাহ হয়েছে মুর্শিদাবাদের দুত্তবারুটিয়া গ্রামে। স্বামী নিকটতর সালার এ ব্যবসা করতেন। সসুরমসাই সালার হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন - ফলে তিনি খুবই সম্মানিত বেক্তি।
এই গ্রামের পরিবেশে বিবাহের পর আমি কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারতাম না। নানা ভাবে দুঃখ কষ্ট পেতাম। সেই বেথায় জন্ম নিলো কবিতার পুষ্প। 

আমার এক পুত্র, চার কন্যা। তাদের মুখপানে চেয়েই সব কষ্ট ভুলে ছিলাম - ওরা যে আমার বক্ষের পাঁজর। বারো বৎসর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে এক মেয়ে মারা গেলে নিজেকে কিছুতেই ধরে রাখতে পারিনি। সেই দুঃখ যন্ত্রনায় জন্ম নিলো কবিতার উৎস।

এখন ভাবি কতদিন বয়ে চলবো এই নিদারুন ব্যাথা ভার। ছেলে-মেয়েরা কাছে থাকলে খুব আনন্দে থাকি। স্বামী গ্রামের নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তার আমার কথা ভাববার সময় নেই। ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-পরিজন সবার কাছ থেকেই খুব ভালোবাসা পেয়েছি। আর কি লিখবো?

যা পাইনি সে কথা ভেবে বিলাপ করে লাভ নেই। শেষ হলো সব কথা, শেষ হলো সব গান। শুধু রবি ঠাকুর এর কোথায় পরপভুকে বলি - 

দুঃখ যদি দাও হে প্রভু, / শক্তি দাও সহিবারে,
হৃদয় আমার যোগ্য করো, / তোমার বাণী বহিবারে।


সবিতা পাল,
সালার, মুর্শিদাবাদ

No comments :

Post a Comment